ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৯ টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ | Host The Website Blog

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৯ টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ

বর্তমানে সব থেকে সহজে আমরা ওয়েবসাইট, বিশেষ করে ব্লগ বানানোর জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এই ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়মিত কিছু কাজ করা উচিৎ। আমরা সাধারণত কোনো সমস্যা না হওয়া পর্যন্ত এসব দিকে নজর দেই না। কিন্তু আমরা যদি আগে থেকেই এ বিষয়ে খেয়াল রাখি তবে ওয়েবসাইটে কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।

ওয়ার্ডপ্রেস এমন একটি শক্তিশালী সিস্টেম যাতে এটির নিজস্ব হোস্টিং, সফটওয়্যার এবং এছাড়াও বিভিন্ন ধরণের প্লাগিন ও থিম রয়েছে। আমরা যেকোনো ধরণের কন্টেন্ট ছবি ও ভিডিও সহ সুন্দরভাবে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারি।

সুতরাং, এটি দেখাশোনা করার জন্য নিয়মিত অবশ্যই আমাদের কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখা। আজকের পোস্ট-এ আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করব।

  • নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন

​ওয়েবসাইটের সিকিউরিটির জন্য আপনার যে জিনিসটি সব থেকে বেশি প্রয়োজন তা হলো শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবস্থা থাকা। তাই ওয়ার্ডপ্রেসের পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের বিষয়টিকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ওয়ার্ডপ্রেস লগিন পেজ, ওয়েবসাইট ডেটাবেজ, FTP - এসবের পাসওয়ার্ড নিয়মিত পরিবর্তন করা উচিত।

  • ওয়েবসাইট ব্যাকআপ

ওয়েবসাইটের ফাইল বা কন্টেন্টগুলো যাতে সুরক্ষিত থাকে সে জন্য নিয়মিত ওয়েবসাইটের ব্যাকআপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুবা আপনার ওয়েবসাইটের ডাটাগুলো হারানোর সম্ভাবনা থেকেই যাবে। কোনো ক্লাউড স্টোরেজ যেমন - Dropbox, Google Drive প্রভৃতি আপনি ব্যাকআপের কাজে ব্যবহার করতে পারেন অর্থাৎ ওয়েবসাইটের ফাইলগুলো এখানে জমা রাখতে পারেন।

  • ওয়ার্ডপ্রেস আপ-টু-ডেট রাখা

ওয়ার্ডপ্রেসে বিল্ট-ইন অবস্থায় আমরা প্লাগিন এবং বিভিন্ন থিম ব্যবহার করতে পারি। অনেক সময় বাইরের কোনো কোম্পানির ওয়ার্ডপ্রেস সাপোর্টেড প্লাগিন অথবা থিম ব্যবহার করে থাকি। একটা থিম অথবা প্লাগিনের কোনো খুঁত যদি ডেভলপার কোম্পানি খুঁজে পায় তখন সেটি ঠিক করে একটি নতুন আপডেট চালু করে দেয়। তখন আমাদের উচিত যত দ্রুত সম্ভব উক্ত সফটওয়্যার অর্থাৎ প্লাগিন বা থিম আপডেট করে নেওয়া। অনেক সময় আমরা প্রিমিয়াম থিম বা প্লাগিন ব্যবহার করে থাকি। এসব প্রিমিয়াম সফটওয়্যারের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সফটওয়্যার আর আপডেট হতে পারে না।ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাসবোর্ড থেকে নিজে থেকেই আপডেট চেক করে নিশ্চিত হতে হবে যে ওয়ার্ডপ্রেস ভার্সন, প্লাগিন এবং থিম আপ-টু-ডেট রয়েছে।

  • স্প্যাম কমেন্ট ডিলিট করা

ব্লগে সাধারণত এই সমস্যাটি বেশি দেখা যায়। স্প্যাম কমেন্টের জন্য আপনার ব্লগের ক্ষতি হতে পারে। তাই নিয়মিত স্প্যাম কমেন্ট নিজে থেকে অথবা কোনো প্লাগিনের মাধ্যমে চেক করে তা ডিলিট করতে হবে। Akismet নামক একটি প্লাগিনের মাধ্যমে স্প্যাম কমেন্ট খুঁজে "মার্ক" করা যায়।

  • ওয়ার্ডপ্রেস ফর্ম টেস্ট করুন

বিভিন্ন প্লাগিন যেমন - Contact Form 7, WPForms ইত্যাদির মাধ্যমে ওয়েবসাইটে বেশ সুন্দর ফর্ম তৈরি করা যায়। অনেক সময় হোস্টিং সার্ভার এবং ইমেইল প্রোভাইডারের সমস্যার কারণে এসব প্লাগিনে যুক্ত ইমেইলে নোটিফিকেশন ইমেইল আসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে অথবা অন্য যেকোনো সমস্যা হতে পারে। তাই নিয়মিত আপনার ওয়েবসাইটের সকল ফর্ম চেক করা উচিত এবং কোনো ক্রুটি খুঁজে পেলে তা তৎক্ষণাৎ ঠিক করা অত্যাবশ্যক।

  • 404 Error অথবা Broken Link ঠিক করা

404 Error তখন হয় তখন কোনো পেজ আর লাইভ থাকে না অথবা আগের ব্যবহৃত পেজ ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু লিঙ্কটি এখনও ওয়েবসাইটে রয়ে গেছে। লিঙ্ক লিখতে ভুল করলেও লিঙ্কটি ওয়েবসাইটে Broken Link অবস্থায় থেকে যায়। এর ফলে ওয়েবসাইট অনেক ভিজিটর কমে যায় এবং বাউন্স রেট বাড়তে থাকে। তাই নিয়মিত এসব লিঙ্ক চেক করে ঠিক করা উচিত।

  • ওয়েবসাইট অপটিমাইজ

ওয়ার্ডপ্রেস এর সকল ডাটা যেমনঃ কন্টেন্ট, কমেন্ট, ছবি, ভিডিও ইত্যাদি থাকে ওয়ার্ডপ্রেস ডেটাবেজের মধ্যে। মাঝে মধ্যে ডেটাবেজে কিছু অপ্রয়োজনীয় ডেটা ঢুকে যায়, এতে ওয়েবসাইট ধীর হয়ে যেতে পারে। সুতরাং ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট অপটিমাইজ করা প্রয়োজন, এতে ওয়েবসাইট পারফর্মেন্স আরো ভাল হবে এবং লোডিং স্পিডও বেড়ে যাবে। ওয়েবসাইটের বর্তমান অবস্থা বোঝার জন্য অনেক ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগিন অথবা অনলাইন সফটওয়্যার ব্যবহার করা যেতে পারে।

  • SEO

এর পরের বিষয়টি হলো - আপনার ওয়েবসাইটের কনটেন্টের উপর আপনার যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যখন কন্টেন্টের উপর গুরুত্বের কথা বলা হয়, তখন চলে আসে SEO এর বিষয়টি। SEO এর জন্য প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় তিনটি কাজ হলো -

১। Google Search Console

২। Google Analytics

৩। SEO Plugin

Google Analytics এর মাধ্যমে আমার দেখতে পারি ওয়েবসাইটে কিভাবে এবং কোন অঞ্চলের ভিজিটর আসছে। এছাড়া ওয়েবসাইটের মাসিক একটা ভিজিটর রিপোর্ট এবং রিয়েল-টাইম অর্থাৎ কোনো এক নির্দিষ্ট সময় আপনার ওয়েবসাইটে কতজন আছে সেটিও দেখা যায়।

অন্যদিকে Google Search Console সেসব কীওয়ার্ড খুঁজে পেতে সাহায্য করে যেখানে আপনার ওয়েবসাইট দেখায়। সেসব আর্টিকেল পাবলিশ করে আপনি সাইটের র‍্যাঙ্কিং বাড়াতে পারবেন।ওয়ার্ডপ্রেসের সব থেকে জনপ্রিয় SEO Plugin হলো Yoast SEO। এই প্লাগিনটি কন্টেন্ট উন্নত করতে সাহায্য করে কারন এই প্লাগিনটি কন্টেন্টের SEO Score বৃদ্ধির জন্য টিপস দেয়।

  • ওয়েবসাইট সিকিউরিটি চেকআপ

আমরা সাধারণত ততক্ষন পর্যন্ত ওয়েবসাইট ক্ষতি হয়েছে বুঝতে পারি না যতক্ষণ না ওয়েবসাইট ধীর হয় এবং র‍্যাঙ্কিং কমে যায়। আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, ওয়েবসাইট ব্যাকআপ ইত্যাদি মাধ্যমে ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি বৃদ্ধি করতে পারি। কিন্তু অতিরিক্ত কোনো সিকিউরিটি সফটওয়্যার যেমন - Sucuri অথবা Cloudflare ওয়েবসাইটে যুক্ত করতে পারেন। এসব সফটওয়্যার সাধারণত ফায়ারওয়্যাল এবং বিভিন্ন হ্যাকিং অ্যাকশন প্রতিরোধ করতে পারে।

আপনার ওয়েবসাইট যদি অনেক বেশি ভিজিটর থাকে, তবে প্রতি তিন মাসে একবার করে WordPress Maintenance করা উচিত। আর যদি আপনার ওয়েবসাইটের যদি ট্র্যাফিক এবং কন্টেন্ট কম হয়, তবে WordPress Maintenace প্রতি ছয় মাসে করা উচিত।

আশা করি, এই পোস্টটি আপনাদের ভাল লেগেছে এবং নিয়মিত ওয়ার্ডপ্রেস ম্যানেজ করার কিছু পদ্ধতি জানতে পেরেছেন।

কোনো সমস্যা হলে আমাদের সাপোর্ট - লাইভ চ্যাট অথবা ইমেইল-এ যোগাযোগ করুন অথবা কমেন্ট করুন।

About the Author আসিফ ইমতিয়াজ প্রমি

টেকনলজি নিয়ে আমার আগ্রহের কমতি নেই। অসংখ্য বিষয়ের মধ্যে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট বেশ মজার লাগে। ওয়েবসাইটের এর প্রাণ হলো হোস্টিং। সুতরাং হোস্টিং এবং ওয়েবসাইট সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজতেই। সেই জ্ঞানে কিছু শব্দ ব্লগ পোস্টগুলোতে লিপিবদ্ধ করি। বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যান্য হোস্টিং কোম্পানি থেকে Host The Website বেশ উন্নত। ব্লগ লেখার শখ আগে থেকেই। তাই ব্যস্ত সময়ের ফাঁকে দু'একটি শব্দ লেখা হয় উক্ত ব্লগে।

Leave a Comment:

To Know Our Latest offers , Subscribe Us.

x